ইরানে মার্কিন হামলায় সহায়তা করবে দুই মুসলিম দেশ: ইসরাইলি সংবাদ


ইরানে মার্কিন হামলায় সহায়তা করবে দুই মুসলিম দেশ: ইসরাইলি সংবাদ

ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার ক্ষেত্রে জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যুক্তরাষ্ট্রকে লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করতে পারে। এছাড়া ব্রিটেনও এই পদক্ষেপকে সমর্থন করছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি দৈনিক ইসরাইল হায়োম। বিষয়টি মিডল ইস্ট আই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা “শক্তিশালী আক্রমণ” পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তারা ‘মৌলিক কৌশলগত পদক্ষেপ’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রিটেন ও জর্ডান ওয়াশিংটনকে গোয়েন্দা তথ্য, হামলার তথ্য ভাগাভাগি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলো ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা রোধে সহায়তা করতে পারে। হামলার মূল লক্ষ্য থাকবে ইসরাইল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার ইসরাইলে দেশটির ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার একদিন পরে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ব্রিটেনের অংশগ্রহণ কতটা হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ইসরাইলি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, এই পদক্ষেপে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনারা আগে কখনও এত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেনি। তারা সমন্বিতভাবে গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।

একাধিক আরব কূটনীতিক ও উপসাগরীয় কর্মকর্তা সম্ভাব্য হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সৌদি আরব, ওমান ও কাতার যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত রাখার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান এখনও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশটিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। 이에 ইরান সতর্ক করেছে যে, যেকোনো হামলা সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানের নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ওয়াশিংটনের পদক্ষেপকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে মনস্তাত্ত্বিক বা প্রতিরক্ষা কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত হিসেবে নিচ্ছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ দাবি করেছেন, ইসরাইলের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক জানিয়েছেন, ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে। একই সঙ্গে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব একতা বজায় রাখার বার্তা দিয়েছে।