
জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের নেতাদের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যকে অহংকার ও দম্ভের শামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, আল্লাহ দম্ভ ও অহংকার পছন্দ করেন না। এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যা নিজের বা দলের ঈমানকে পর্যন্ত পরীক্ষায় ফেলে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জামায়াতের নেতারা বলছেন ঢাকায় একটি আসনও কাউকে দেওয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সিট দেওয়ার মালিক কে? অবশ্যই আল্লাহ। কার ক্ষমতায় কেউ বলতে পারে, ঢাকায় আর কোনো আসন কাউকে দেওয়া হবে না?’ নির্বাচন একটি অনিশ্চিত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ যাকে সাহায্য করবেন এবং জনগণ যাকে সমর্থন দেবে, সেই নির্বাচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ১৯৯১ সালে ঢাকায় সব আসন পেয়েছিলাম। তবু আমরা কখনো বলিনি যে অন্য কেউ কোনো আসন পাবে না। পাওয়া তো অসম্ভব নয়। অথচ যারা জীবনে কোনোদিন ঢাকায় আসন পায়নি, তারা এমন কথা বলছে—এটা কি দম্ভ নয়?’
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দুর্বল ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জন্মসূত্রে বাংলাদেশি কোনো নাগরিক বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে তা পরিত্যাগ করলে নির্বাচনে অংশগ্রহণে তার কোনো বাধা নেই। তিনি বলেন, সংবিধান বা আরপিও কোথাও উল্লেখ নেই যে, বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগের আবেদন ওই দেশ গ্রহণ করেছে কি না, সেটি যাচাই করতে হবে।
পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক বসানোর বিষয়েও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, শুরুতে ব্যালটে দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি ও হাতপাখা প্রতীক রাখা হলেও ধানের শীষ প্রতীক মাঝখানে এমনভাবে বসানো হয়েছে, যাতে ব্যালট ভাঁজ করলে তা ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়। এ বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করা হলে তারা বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ভুল বলে স্বীকার করেছে বলে জানান তিনি।
দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, দুর্যোগ ও সংকটের সময় এ দেশের মানুষ সবসময় জিয়া পরিবারকে পাশে পেয়েছে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছে এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটেছে। এবারও সেই বিশ্বাস ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :