কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের নানা দেশে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি অভিবাসীরা


কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বিশ্বের নানা দেশে বিপর্যস্ত বাংলাদেশি অভিবাসীরা

মার্কিন প্রশাসন বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবার, স্ত্রী, সন্তান বা ভাইবোনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন ভেঙে গেছে অনেকের।

বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেও সেখানে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ব্যবসা ও পর্যটন ভিসায় এখন ১৫ হাজার মার্কিন ডলারের জামানত দিতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়ে আসছেন—সেসব দেশের ওপর ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশ রয়েছে ১৯ নম্বরে। ‘ইমিগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার রেসিপিয়েন্ট রেটস বাই কান্ট্রি অব অরিজিন’ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের মধ্যে ৫৪.৮ শতাংশই সরকারের সহায়তা পায়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশে ভিসা প্রাপ্তিতেও কঠোরতা বেড়েছে। বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের পর্যটন ও ব্যবসা ভিসা পেতে জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ দিতে হচ্ছে। কেউ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘যারা সেই দেশের সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সুবিধা নেয়, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা বেশি। তাই ভিসা সীমাবদ্ধতায় বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।’’

২০১৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশি পাসপোর্টের ওপর আলাদা নজরদারি রয়েছে। নেপাল, মালদ্বীপের বিমানবন্দরে অতিরিক্ত জেরা, মিসর, থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইউরোপের দেশগুলোতে ভিসার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ এবং প্রক্রিয়া ধীরগতি—এসব কারণে বিদেশে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ী প্রভাবিত হচ্ছেন।

বিশেষ করে ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ হওয়ার ফলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ভিসা প্রাপ্তিতেও জটিলতা দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু দেশের দূতাবাসে একাধিকবার ইন্টারভিউ দিতে হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য এখনও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। তবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, বাহরাইন ও মালয়েশিয়ায় ভিসা সীমিত হওয়ায় প্রবাসী কর্মীরা বিপাকে পড়ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার না ধরলে দেশের অভিবাসন খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বায়রা নেতা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘‘মধ্যপ্রাচ্য ছাড়া অন্য বড় শ্রমবাজার বন্ধ। সৌদি এখনও প্রধান গন্তব্য। আমিরাত, বাহরাইন, ওমানের বাজার কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে চালু করতে হবে। মালয়েশিয়া বাজারও দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে।’’

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. মো. জালাল উদ্দিন শিকদার বলেন, ‘‘সরকারি-বেসরকারি গবেষণা অভাবের কারণে ইউরোপে দক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ পরিবর্তন সম্পর্কিত পরিষ্কার ধারণা নেই।’’