
২০২৬ সালের বহুল আলোচিত চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় থাকা ‘ও রোমিও’ মুক্তির আগেই বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়েছে। ছবির টিজার ও প্রথম ঝলক প্রকাশের পর শহীদ কাপুরের নতুন লুক দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। পাশাপাশি বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ফরিদা জালালের সংলাপও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই বাধার মুখে পড়েছে নির্মাতারা।
জানা গেছে, যে ব্যক্তির জীবনকাহিনি অবলম্বনে ছবিটি নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে—হোসেন উস্তারা—তার কন্যা সানোবের শেখ নির্মাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, ছবিতে তার বাবার চরিত্র ও ব্যক্তিত্বকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে সানোবের শেখ আগামী সাত দিনের মধ্যে দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। পাশাপাশি সব অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাটির মুক্তি স্থগিত রাখার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সানোবের শেখ বলেন, ছবিতে যে কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে তা বাস্তবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার দাবি, তার বাবা কোনো অপরাধী ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সমাজরক্ষায় সক্রিয় একজন মানুষ। তিনি জানান, স্বপ্না নামের ওই নারী তার বাবার কাছে পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন এবং নিয়মিত তাদের বাসা ও অফিসে যাতায়াত করতেন।
তিনি আরও বলেন, তার বাবা কখনোই কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ড পাওয়া যাবে না। অথচ ছবিতে তাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে দেখানো হয়েছে, যা তার পরিবারের কাছে অসম্মানজনক বলে মনে করছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে হোসেন উস্তারার প্রেমজ জীবনের উপস্থাপন নিয়েও আপত্তি তুলেছেন সানোবের শেখ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপ্না স্বামীর মৃত্যুর পর একাকী জীবনযাপন করতেন এবং সমাজ থেকে অপরাধ দূর করতে সহযোগিতা চাইতেন। সেই সময় তার বাবাই একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন যিনি তাকে সহায়তা করেছিলেন। কিন্তু সিনেমায় যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, তাতে স্বপ্নার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে ‘ও রোমিও’-এর নির্ধারিত মুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্মাতাদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
আপনার মতামত লিখুন :