নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি


নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়াদের উদ্ধারে তল্লাশির পাশাপাশি সুড়ঙ্গ খননের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।

৩০ আগস্ট পর্যন্ত দুই দেশের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ৭৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৪ জন। দুর্যোগের ভয়াবহতায় নেপাল থেকে ভেসে যাওয়া সাতটি মরদেহ ভারতের ভূখণ্ডেও উদ্ধার করা হয়েছে।

২৬ আগস্ট সকালে নেপালের লিরুং শৃঙ্গের দক্ষিণ ঢালে হিমবাহের পানি নেমে এসে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও চীনা গণমাধ্যম। প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর ও বিপুল পরিমাণ পানি ২০ কিলোমিটারের বেশি এলাকা প্লাবিত করে চীনের তিব্বতের জিরং সীমান্তবর্তী এলাকায় আছড়ে পড়ে।

জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে আটকা শ্রমিকদের উদ্ধারে সুড়ঙ্গ

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপাল। দেশটিতে ৭৩৪ জনের মৃত্যু এবং ২ হাজার ৪৯৮ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নেপালের সেনাবাহিনী ও প্রকৌশলীরা ত্রিশুলি-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণস্থলে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের কাছে পৌঁছাতে সুড়ঙ্গ খননের পাশাপাশি বিকল্প পথ তৈরির কাজ চলছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা একটি ছিদ্রের মাধ্যমে পাইপ ভেতরে প্রবেশ করিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ শুরু করেছেন।তবে ভারী বৃষ্টি ও নদীর পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রকল্পের সংখ্যা বেশি থাকায় নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ ৫৮৯ জন বিদেশিরও কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

তিব্বতেও বাড়ছে উদ্ধার তৎপরতা

চীনের তিব্বত অঞ্চলে এ দুর্যোগে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

৩০ আগস্ট ভূমিধসের কারণে নতুন একটি হ্রদের সৃষ্টি হলে সীমান্ত এলাকায় দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। ঝুঁকি বিবেচনায় সেখানে কর্মরত উদ্ধারকারী দলগুলোকে সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।পরে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, হ্রদটির পানি স্বাভাবিকভাবে নেমে গিয়ে প্রায় সম্পূর্ণ খালি হয়ে গেছে। এরপর ২ হাজার ১৪০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী আবারও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য কয়েক কোটি ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে পুনর্গঠনে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন, ফরেনসিক পরীক্ষার সরঞ্জাম এবং মরদেহ সংরক্ষণের উপকরণসহ বিশেষায়িত সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।এদিকে উদ্ধার অভিযান আরও কার্যকর করতে নেপাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই দেশ দ্রুত স্যাটেলাইট ছবি ও পানিসম্পর্কিত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে একমত হয়েছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে উদ্বেগ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ডের মধ্যেও জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দুই দেশের উদ্ধারকারীরা।