
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও অনড় বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের কোনো কৌশল বা দ্বৈত অবস্থান নেই।
উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরকারের মূল বক্তব্যগুলো তুলে ধরেন:
ফিরিয়ে আনার অনড় অবস্থান: ভারত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই দাবি তোলা হচ্ছে—এমন ধারণা বাতিল করে দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে আসামি, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবেই ধরে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় সরকার।
আপিলের সুযোগ নেই: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের বরাতে তিনি জানান, শেখ হাসিনার আর আপিল বা বিচার পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। টেকনিক্যালি তিনি দেশে ফিরলে তার জন্য মৃত্যুদণ্ডই অপেক্ষা করছে।
ভারতের প্রতি প্রত্যাশা: ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেওয়াকে অপ্রত্যাশিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের স্বার্থে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ভারত সরকারের উচিত শেখ হাসিনার ‘মুখ বন্ধ রাখা’ এবং তাকে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা।
জনমনে ক্ষোভ ও আস্থার পরিবেশ: শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষের জন্য চরম বিরক্তিকর (ইরিটেটিং) এবং ক্ষোভের কারণ হচ্ছে। ভারত এটি বুঝতে ব্যর্থ হলে আস্থার পরিবেশ তৈরি ব্যাহত হবে বলে মনে করেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে রাজনৈতিক ব্যক্তির বদলে পেশাদার কূটনীতিককে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেও শেখ হাসিনার বক্তব্য দুই দেশের সম্পর্কের আস্থার পরিবেশ নষ্ট করছে। তাই তাকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় বাধা দেওয়াই ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম ইতিবাচক পদক্ষেপ হওয়া উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :