
কয়েক মাসের বিরতির পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরেই দারুণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলকে সর্বনিম্ন রানে অলআউট করার পর ব্যাটিংয়েও দাপট দেখিয়েছে টাইগাররা। বিশেষ করে তানজিদ হাসান তামিমের ঝড়ো ইনিংসে ৮ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ৩০.৪ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রান করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এটি পাকিস্তানের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন ফাহিম আশরাফ। বাংলাদেশের হয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা।
১১৫ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫.১ ওভারে দুই উইকেট হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন সাইফ হাসান। তার বিদায়ের পর ২৭ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তবে অন্য প্রান্তে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম।
ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ৩২ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তামিম। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যদিকে ৩৩ বলে ২৭ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
এর আগে বল হাতেও দাপট দেখায় বাংলাদেশ। নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং করেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, যদিও শুরুতে তারা উইকেটের দেখা পাননি। পরে স্পিন আক্রমণে আসেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে বোলিংয়ে এসে দলকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। তার পরের চার ওভারের প্রতিটিতেই উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে আউট করে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার।
পরে বোলিংয়ে এসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় স্পেলে একটি উইকেট পান তাসকিন আহমেদ।
৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশর আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ শেষ দিকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৩৭ রান করেন এবং আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন। তবু শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান।
আপনার মতামত লিখুন :