বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে : বিশ্বব্যাংক


বাংলাদেশে ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে : বিশ্বব্যাংক

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের শিল্প ও কৃষি খাত। দীর্ঘায়িত এ সংকটের ফলে দেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সরকারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি বিশ্বব্যাংকের জুনের মাঝামাঝি সময়ের এক মূল্যায়নে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে পৌঁছেছে। পেট্রোবাংলার এলএনজি চুক্তির একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ২৪ থেকে ২৮ ডলারে উঠে গেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। জ্বালানির এই অতিরিক্ত খরচের কারণে সরকারে ওপর ভর্তুকির চাপ বাড়ছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির ২.৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে শিল্প উৎপাদন ও কৃষিতে। গ্যাস সরবরাহের অভাবে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ হয়ে গেছে এবং বাজারে সারের দাম ইতিমধ্যে ৩০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন শিল্প সংযোগ বন্ধ থাকা ও কারখানা চালু রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মঘণ্টা কমাতে বা শ্রমিক ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশিষ্ট ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কাজের সুযোগ কমে যাওয়া স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। বিশ্বব্যাংকের ৬ লাখ চাকরি হারানোর আশঙ্কা এই বাস্তবতারই প্রতিফলন।”

সংকটের ফলে দারিদ্র্য বিমোচনের গতিও মারাত্মকভাবে থমকে গেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব মতে, সংঘাত না থাকলে এ বছর প্রায় ১৭ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন, কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এ সংখ্যা কমে মাত্র ৫ লাখে নেমে আসবে। ফলে প্রায় ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর পাশাপাশি ওষুধ ও সরঞ্জাম আমদানির খরচ এবং জেনারেটর চালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্বাস্থ্যখাতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এ সংকট দ্রুত নিরসন না হলে মূল্যস্ফীতির ধারাবাহিকতায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের ওপর জীবনযাত্রার চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।