ঋণখেলাপিদের ছবি প্রকাশে অনুমতি চায় ব্যাংকগুলো


ঋণখেলাপিদের ছবি প্রকাশে অনুমতি চায় ব্যাংকগুলো

খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করতে ঋণখেলাপিদের নাম ও ছবি প্রকাশের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়েছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। ব্যাংকগুলোর পক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে একটি লিখিত প্রস্তাব পাঠিয়েছে।

বুধবার পাঠানো ওই চিঠিতে খেলাপি ঋণ দ্রুত কমানো, আদায় প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নতুন করে খেলাপি ঋণ বাড়া ঠেকাতে একাধিক সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

এর আগে গত বছরের ১২ নভেম্বর খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এবিবির একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ব্যাংকারদের কাছে সুপারিশ চাওয়া হয়েছিল। প্রায় আড়াই মাস পর এবিবি তাদের সুপারিশমালা জমা দিল, যেখানে খেলাপিদের তালিকা ও ছবি প্রকাশের বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পেয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবার ২০১৪ সালে শাখা পর্যায়ে ঋণখেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় তা স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। এমনকি ২০২১ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বৈঠকে বিষয়টি আলোচনায় এলেও কার্যকর সিদ্ধান্ত আসেনি।

এবার নতুন করে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে খেলাপিদের প্রকাশ্যে আনার দাবি জানানো হলো।

এবিবির মূল প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—

খেলাপি ঋণ দ্রুত কমাতে:

  • আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে আংশিক ঋণ অবলোপনের সুযোগ

  • বন্ধক রাখা শেয়ার দ্রুত নগদায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা

  • মৃত্যু, দুর্যোগ বা মারাত্মক অসুস্থতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ঋণের সুদ মওকুফ সহজ করা

ঋণ পরিশোধে খেলাপিদের চাপ তৈরি করতে:

  • ব্যাংক বা আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা

  • খেলাপিদের নাম ও ছবিসহ তালিকা প্রকাশ

  • ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা

বন্ধকি সম্পদ বিক্রি সহজ করতে:

  • নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পদ হস্তান্তরে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহার

  • নিলাম ক্রেতাদের কর ছাড় ও প্রণোদনা

  • জমি হস্তান্তর ও নামজারিতে প্রশাসনিক বাধা কমানো

মামলা নিষ্পত্তি দ্রুত করতে:

  • খেলাপিদের সম্পদ ও আর্থিক তথ্য দ্রুত সংগ্রহের সুযোগ

  • আদালতের স্থগিতাদেশে অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা

  • যেসব জেলায় খেলাপি বেশি, সেখানে পৃথক অর্থঋণ আদালত স্থাপন

নতুন খেলাপি ঋণ ঠেকাতে:

  • ভূমি মূল্যায়নকারী ও জরিপকারীর তালিকা প্রকাশ

  • বন্ধকি সম্পদের জন্য কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ গঠন

ব্যাংকাররা মনে করছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে।