
ভারতের উত্তরপ্রদেশে এক বৃদ্ধের বাড়ি থেকে মেয়ের পচনশীল কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় চার মাস ধরে মেয়ের মরদেহ ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী উদয়ভানু বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দুর্গন্ধ আড়াল করতে তিনি নিয়মিত পারফিউম ও সুগন্ধি স্প্রে ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদয়ভানুর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে মেয়ের মৃত্যু মানতে না পেরে শেষকৃত্য সম্পন্ন না করে বাড়ির একটি পরিত্যক্ত ঘরে মরদেহ রেখে দেন বাবা।
প্রতিবেশীরা মাঝে মধ্যে বাড়ির দিক থেকে অস্বাভাবিক গন্ধ পেলেও বিষয়টি নিয়ে কেউ স্পষ্টভাবে কিছু বুঝতে পারেননি। কারণ, ঘরের আশপাশে নিয়মিত সুগন্ধি ছিটানো হতো। স্থানীয়দের ধারণা ছিল, হয়তো বাড়িতে কোনো ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত এপ্রিল মাসে। স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে উদয়ভানুর সঙ্গে কয়েকজন আত্মীয়ের দেখা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁরা প্রিয়াঙ্কার খোঁজ জানতে চাইলে উদয়ভানু জানান, মেয়েকে চিকিৎসার জন্য দেরাদুনের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর কথাবার্তায় অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন আত্মীয়রা।
সন্দেহ আরও বাড়লে তাঁরা বিস্তারিত জানতে চান। একপর্যায়ে উদয়ভানু ভেঙে পড়ে স্বীকার করেন, প্রিয়াঙ্কা অনেক আগেই মারা গেছেন এবং তাঁর মরদেহ এখনও বাড়ির ভেতরেই রাখা আছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির একটি বন্ধ ঘর থেকে পচনশীল কঙ্কাল উদ্ধার করে।
পরে ফরেনসিক পরীক্ষা ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি প্রিয়াঙ্কারই। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, দীর্ঘ সময় ঘর বন্ধ থাকায় মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে মেয়ের মৃত্যুতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন উদয়ভানু। সেই শোক থেকেই হয়তো তিনি মরদেহ গোপন রেখেছিলেন। তবে পুরো ঘটনায় অন্য কোনো অপরাধ, অবহেলা বা তথ্য গোপনের বিষয় জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও কৌতূহল ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, এতদিন একই বাড়িতে এমন একটি ঘটনা ঘটছিল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। বর্তমানে উদয়ভানুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ এবং ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :