
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবসমাজ দেশের সম্পদ। তারা কোনো দয়া বা অনুদান চায় না, চায় সম্মানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ। তিনি বলেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেওয়া অপমানজনক। বরং প্রতিটি বেকার যুবককে কর্মক্ষম করে গড়ে তোলাই জামায়াতের লক্ষ্য।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর সার্কিট হাউস ময়দানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে যুবকরা কি বেকার ভাতার জন্য প্রাণ দিয়েছিল? না। তারা বলেছিল, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমরা যুবকদের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না; বরং তাদের হাতকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলব।’
বিএনপির নাম উল্লেখ না করে তাদের প্রস্তাবিত ‘বেকার ভাতা’ ও ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আপনারা আমাদের সরলমনা কৃষকদের ধোঁকা দিচ্ছেন। যারা আজ ফার্মার্স কার্ডের কথা বলছেন, তাদের শাসনামলেই সারের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের গুলি করে মারা হয়েছিল।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁর দলের হিসাব অনুযায়ী গত সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তৌফিক দিলে পাচারকারীদের পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়ে হলেও এই টাকা উদ্ধার করে আনা হবে। টাকা পাচারকারী মামু-খালু—কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’
ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা খাতকে ইচ্ছাকৃতভাবে পঙ্গু করে রাখা হয়েছে। আমরা কৃষিকে কেবল চাষাবাদ নয়, একটি সমৃদ্ধ শিল্পে রূপান্তর করব।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেতন কাঠামো ও কর্মঘণ্টা পুনর্মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করা পুলিশ আর আট ঘণ্টা কাজ করা কর্মচারীর বেতন সমান হতে পারে না।’
নারী ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একই আসমানের নিচে সব ধর্মের নারী নিরাপত্তা ও সম্মানের সঙ্গে বসবাস করবেন। আমরা প্রতিটি নারীকে মায়ের দৃষ্টিতে দেখি।’
প্রায় ৩০ মিনিটের বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান ময়মনসিংহ বিভাগের ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, ‘এবারের নির্বাচন ভাগ্য বদলের নির্বাচন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে “হ্যাঁ” ভোট দিন। হ্যাঁ মানে আজাদী, আর না মানে গোলামী।’
বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে জনসভা শেষ হয়। জনসভাকে ঘিরে সার্কিট হাউস ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর আগে একই দিন সকালে তিনি কিশোরগঞ্জের একটি জনসভায় বক্তব্য দেন এবং সেখান থেকে হেলিকপ্টারে ময়মনসিংহে আসেন।
আপনার মতামত লিখুন :