ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে মসজিদের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বাগেরহাটে


ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে মসজিদের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বাগেরহাটে

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের উন্নয়নের নামে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। কাগজে-কলমে প্রকল্পের অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে সংশ্লিষ্ট মসজিদগুলোর কোনো অস্তিত্ব না থাকায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল খাতকে ব্যবহার করে এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, বরং মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সরেজমিনে মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মাতুব্বরবাড়ি জামে মসজিদ (স্থানীয়ভাবে মাদারবুনিয়া জামে মসজিদ নামে পরিচিত) দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের অর্থায়নে পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন করে কাজ শুরু হলেও অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ থেমে রয়েছে। বর্তমানে পাশেই অস্থায়ী ছাপড়া তৈরি করে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছেন।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ তারা পাননি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটির নেতারাও জানিয়েছেন, সরকারি কোনো অনুদানের বিষয়ে তারা অবগত নন। বরাদ্দ হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায় গেছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে জেলা পরিষদের নথিতে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সেখানে মাদারবুনিয়া জামে মসজিদের উন্নয়নে দুই লাখ টাকা বরাদ্দের তথ্য রয়েছে। এমনকি একটি অংশ উত্তোলন, কাজ পরিদর্শন এবং নির্মাণকাজ সম্পন্নের ছবিও জমা দেওয়ার উল্লেখ রয়েছে।

এছাড়া একই ইউনিয়নের আরও দুটি মসজিদের নামে পৃথক প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের তথ্য মিলেছে। তবে সরেজমিনে গিয়ে ওই নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় এক সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, এসব প্রকল্প সম্পূর্ণ ভুয়া এবং পরিকল্পিতভাবে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে মোরেলগঞ্জ উপজেলার গাজীরঘাট গ্রামের মো. মাকসুদুর রহমান (মামুন)-এর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি অনিয়মের কথা অস্বীকার করে দাবি করেছেন, বরাদ্দ আনার ক্ষেত্রে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে এবং প্রয়োজনে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।