
ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে সরকার। শনিবার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করে বলেন, সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় নেতাদের সম্মান করে এবং জীবনের নানা সংকটে তাদের কাছ থেকেই দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করে। তাই সমাজে ইতিবাচক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে ধর্মীয় ব্যক্তিদের দায়িত্বও অনেক বেশি।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছে সরকার। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য পয়লা বৈশাখ থেকে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানুষের জীবনকে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পারে, কিন্তু ধৈর্য, সততা, সহনশীলতা ও মানবিকতার মতো গুণাবলি ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে না। এসব মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে দেশের কয়েক হাজার মসজিদ, মন্দির ও বৌদ্ধ বিহারের ধর্মীয় নেতারা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের এই সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় নেতারা চাইলে উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
আপনার মতামত লিখুন :