
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির রাজনীতি বন্ধ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দলের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন। তবে সে আহ্বান উপেক্ষা করেই বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি শুরু হয়, যার ফলশ্রুতিতে নিজেদের লোকদের হাতেই শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় চট্টগ্রাম নগরের বন্দর স্কুল মাঠে নগর জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাম উল্লেখ না করে একটি দলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “তাদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বসে হাতে ধরে বলেছি—চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, অমুক আলমের সাম্রাজ্যের পাহারাদারি বন্ধ করুন। কিন্তু তারপরও এখানে-ওখানে দখলদারি শুরু হলো। সেই দখলদারিতে গিয়ে নিজেরাই ২৩৪ জন মানুষকে হত্যা করেছে। এরা বাংলাদেশকে কী দেবে?”
বিএনপির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের একজন গর্বিত সন্তান, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নিজেই বলেছেন—তিনি এখন আর বিএনপিতে নেই। কারণ এটি আর জিয়াউর রহমান বা বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়।
তিনি বলেন, “আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। তারা ১৫ বছর, আমরা আরও বেশি সময়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবে প্রকাশ্য দিবালোকে আমাদের ছয়জন ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা তাদের পাওনার একাংশ পেয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ মুক্ত হয়েছে।”
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী মানসিকতার শক্তিগুলোকে চিরতরে লাল কার্ড দেখাতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সবচেয়ে নির্যাতিত দল হয়েও জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রেখেছে এবং শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। অথচ সেই সময়ে একটি দল চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে।
চট্টগ্রাম বন্দর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি জনগণের সম্পদ। দেশের মানুষ যদি জামায়াতে ইসলামীর ওপর দায়িত্ব দেয় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেয়, তবে দেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দরকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া, এলডিপির নগর সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের নগর সভাপতি খুরশিদ আলম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম লুৎফর রহমান, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা মিতু, ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এবং ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা।
এ ছাড়া ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মো. জুবাইরুল হাসান আরিফ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ আসনের মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, চট্টগ্রাম-১১ আসনের মোহাম্মদ শফিউল আলম এবং খাগড়াছড়ি আসনের প্রার্থী ইয়াকুব আলী।
আপনার মতামত লিখুন :