কেউ কেউ বসন্তকালে আইসা বলে ‘কুহু কুহু’: জামায়াতের আমির


কেউ কেউ বসন্তকালে আইসা বলে ‘কুহু কুহু’: জামায়াতের আমির

১০ দলীয় জোটকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের সমর্থনে সংসদে যেতে পারলে সরকার গঠন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আমরা কথা দিচ্ছি—শুধু নদীর প্রাণই ফিরবে না, মানুষের জীবনেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে, ইনশাল্লাহ।”

শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের চারটি প্রধান নদীকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “এসব নদীর কি কোনো মা বাবা ছিল না। তাহলে আমাদের নদী মারা গেল কেন। ওরা প্রতি পাঁচ বছরে একবার আসে, বাকি সাড়ে চার বছর ওদের হারিকেন জ্বালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ আবার বসন্তের কোকিলের মতো বসন্তকালে আইসা বলে কুহু কুহু ডাক শুরু করে।”

উত্তরবঙ্গ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা করে তিনি বিশ্বাস করেন—মাত্র পাঁচ বছরেই এই অঞ্চলের চেহারা বদলে দেওয়া সম্ভব। সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে উত্তরবঙ্গের আর পিছিয়ে থাকার কোনো কারণ থাকবে না। তিনি বলেন, “এই এলাকার মাটি উর্বর, সম্ভাবনায় ভরপুর। ষড়যন্ত্র ও বঞ্চনার মাধ্যমে এ অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, শুধু পঞ্চগড় নয়—বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই মেডিকেল কলেজ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে ১০ দলীয় জোটের। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে নিয়ে গেছে, সেগুলো ফিরিয়ে আনা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাটের সুযোগ দেওয়া হবে না।

বক্তব্যে তিনি বলেন, জনসভায় শহীদ পরিবারের সদস্য, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের উপস্থিতি রয়েছে—এ কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জাতি তাঁদের কাছে ঋণী। সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান পঞ্চগড়-১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি প্রতীক এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী শফিউল আলমের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।

জনসভায় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইকবাল হুসাইনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১০ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।