ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে : মাসুমা হাদি


ইউনূস সরকার ওসমান হাদির রক্তের সঙ্গে বেইমানি করেছে : মাসুমা হাদি

বরিশালে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি বর্তমান সরকার ও বিএনপিকে ঘিরে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওসমান হাদির রক্তের ওপর ভর করেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু পরে সেই আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতনির্ভর রাজনীতি করে জনগণের সমর্থন ধরে রাখা সম্ভব হবে না।

রোববার (১৭ মে) সকাল ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর সদর রোডের টাউন হলের সামনে ‘বরিশালের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর নির্যাতন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে মাসুমা হাদি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর প্রথমদিকে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করলেও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও আর সেখানে যাননি। বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির হত্যার বিচার না হলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ব্যর্থ হয়ে যাবে। তার ভাষায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা করা হচ্ছে এবং বিচারপ্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়ে অন্য ইস্যু সামনে আনার চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ এসব ভুলে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাসুমা হাদি বলেন, তারা কেবল বিচার দাবি করতেই মাঠে নামেননি; প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই বিচার আদায় করে নেবেন। তিনি দাবি করেন, ওসমান হাদি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, তিনি পুরো বাংলাদেশের প্রতীক।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জানান, সমাবেশে অংশ না নিতে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাকেও গুলি করে হত্যার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তবে ভয় না পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মৃত্যুর পরও মানুষ যেন ওসমান হাদির বিচারের দাবি চালিয়ে যায়।

সমাবেশে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাসুমা হাদি বলেন, ওসমান হাদি তাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে দাঁড়াতে হয় এবং কীভাবে অস্ত্র ছাড়াই আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।