রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট: বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না স্থবির, দিশেহারা গৃহিণীরা


রাজধানীতে তীব্র গ্যাস সংকট: বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না স্থবির, দিশেহারা গৃহিণীরা

স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। গৃহস্থালি চুলায় গ্যাসের চাপ অস্বাভাবিক কমে যাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে গৃহিণীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও পরিবার পরিচালনার ক্ষেত্রে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনের অধিকাংশ সময়ই চুলায় কাঙ্ক্ষিত গ্যাস থাকছে না। কোনো কোনো এলাকায় সামান্য গ্যাস সরবরাহ থাকলেও তাতে রান্না করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সাধারণ খাবার তৈরি করতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুলার সামনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সামান্য আঁচে রান্না করতে গিয়ে ভাত-তরকারি সেদ্ধ হতে দ্বিগুণ-তিনগুণ সময় লাগছে, অনেক সময় মাঝপথে আগুন নিভে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।

বাড্ডা এলাকার গৃহিণী মরিয়ম তাঁর দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, “সকালে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোসহ সংসারের অনেক কাজ থাকে। কিন্তু গ্যাসের সংকটের কারণে দিনের বড় একটা সময় চুলার সামনেই বসে থাকতে হয়। সামান্য ভাত রান্না করতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে।”

একই চিত্র দেখা গেছে মিরপুর এলাকাতেও। সেখানকার বাসিন্দা তন্নী আক্তার জানান, গ্যাস না থাকায় বিকল্প হিসেবে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে একদিকে বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে সব ধরনের রান্নাও এতে করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্যাস সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সিলিন্ডার বা ইন্ডাকশন চুলা কিনতে হচ্ছে। ফলে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে বাড়তি আর্থিক চাপের বোঝা চেপেছে।

বাসাবাড়ির পাশাপাশি এই জ্বালানি সংকটের ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং পরিবহন খাতেও। তবে রান্নার গ্যাস সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এই দুর্ভোগ এখন সাধারণ মানুষের প্রধান ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংকটের নেপথ্যে কারিগরি ত্রুটি এই তীব্র সংকট প্রসঙ্গে ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ‘তিতাস গ্যাস’ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীস্থ এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এর ফলে মূল জাতীয় গ্রিডে এলএনজি (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি কমে গেছে।

পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তিতাস গ্যাসের আওতাধীন সব ধরণের গ্রাহক প্রান্তে গ্যাসের এই স্বল্পচাপ বজায় থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।