লবণ না খেলে শরীরে কী ঘটে?


লবণ না খেলে শরীরে কী ঘটে?

সুস্থ থাকার জন্য চিকিৎসকেরা লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় লবণ একেবারে খাওয়া বন্ধ করে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণ কম খাওয়া ভালো, কিন্তু একেবারে বাদ দিলে শরীরে বিপদ সৃষ্টি হতে পারে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ জানাচ্ছেন, শরীরে সোডিয়ামের কোনো ভূমিকা নেই এমন ধারণা ভুল। দীর্ঘ সময় ধরে লবণের মাত্রা অনেক কমিয়ে দিলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং স্নায়ু ও মাংসপেশির সক্রিয়তা বজায় রাখতে লবণ বা সোডিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লবণের ঘাটতি ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তাই লবণকে শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধির উপকরণ হিসেবে ভাবা ঠিক নয়।

দীর্ঘ সময় কম লবণ খেলে শরীরের ওপর যা প্রভাব ফেলতে পারে:

রক্তের ঘনত্ব কম-বেশি হতে পারে এবং রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে পারে।

কিডনির ওপর চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।

রেনিন-অ্যাঞ্জিওটেনসিন-অ্যালডেস্টেরন-এর মতো হরমোনের মাত্রা অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে।

মারাত্মকভাবে সোডিয়ামের ঘাটতি হাইপোন্যাট্রেমিয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা প্রভাবিত করতে পারে।

শরীরে পানি ও খনিজের ভারসাম্য হারালে পেশিতে টান ধরা, ক্লান্তি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, কিডনি রোগীদের লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সোডিয়ামের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কম হলে কিডনির কাজও প্রভাবিত হতে পারে।অতিরিক্ত লবণ খাওয়া এড়াতে প্রক্রিয়াজাত বা প্যাকেটজাত নোনতা খাবার বাদ দিন। খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত কাঁচা লবণ ব্যবহার করবেন না। হার্ট, উচ্চ রক্তচাপ বা কিডনি রোগীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লবণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।