বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে ব্যাপক সমাবেশ


বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানজুড়ে ব্যাপক সমাবেশ

বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ ও সহিংসতার প্রতিবাদে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রদেশে সরকারপন্থী লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছেন। এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও সর্বোচ্চ নেতার প্রতি অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।

সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে তেহরানসহ অধিকাংশ প্রদেশে সমাবেশ শুরু হয়। তবে কিছু অঞ্চলে সকাল থেকেই কর্মসূচি পালিত হয়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ার অভিমুখে মানুষের ঢল নেমেছে। বিক্ষোভকারীরা ‘মৃত্যু আমেরিকার’, ‘মৃত্যু ইসরাইলের’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজা ও শোক মিছিলে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। একই সঙ্গে কেরমান, জাহেদান, বিরজান্দসহ বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের মতে, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতেই এসব সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো এই কর্মসূচিকে ‘আমেরিকান-জায়নবাদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, দেশজুড়ে এই বিপুল জনসমাগম বিদেশি শক্তির ষড়যন্ত্র, ভাড়াটে গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টির প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে অর্থনৈতিক দাবিতে কয়েকটি শহরে শান্তিপূর্ণভাবে দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ হলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েকজন কর্মকর্তার বক্তব্যের পর পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। ইসরাইল-সমর্থিত ফারসি ভাষার গণমাধ্যমগুলো ওই বক্তব্যগুলো প্রচার করে বিশৃঙ্খলা উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

সরকার অর্থনৈতিক সংকট ও জনগণের অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপকে কাজে লাগিয়ে বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রত্যক্ষ সমর্থন রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করা হয়।

ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এক বক্তব্যে বলেন, ইরান ভাঙচুরকারীদের কাছে কখনো মাথানত করবে না এবং শত্রুর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, প্রতিবাদ ও দাঙ্গা এক নয়। তিনি বেসামরিক নাগরিক হত্যাকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাঙ্গাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিচ্ছে।

একই বক্তব্যে সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, ইরান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করে, তবে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। বিচার বিভাগও বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও সর্বোচ্চ নেতার পাশে আছেন এবং কোনো বিদেশি শক্তিকে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে দেবেন না। অনেকেই বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা বাস্তব হলেও তার সমাধান দেশের ভেতর থেকেই আসতে হবে, বাইরের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।