স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ডাবের পানি কতটা উপকারী?


স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ডাবের পানি কতটা উপকারী?

গরমে বা শারীরিক পরিশ্রমের পর এক গ্লাস ডাবের পানি অনেকের কাছেই স্বস্তির নাম। তবে শুধু তৃষ্ণা মেটানোই নয়, নিয়মিত ডাবের পানি পান শরীরের জন্য নানাভাবে উপকারী—এমনটাই বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ডাবের পানি একটি প্রাকৃতিক পানীয়, যাতে প্রায় ৯৪ শতাংশই পানি এবং চর্বির পরিমাণ খুবই কম। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন–এর তথ্য অনুযায়ী, ডাবের পানি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করার পাশাপাশি ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ছয় থেকে সাত মাস বয়সী কাঁচা ডাব থেকে সাধারণত এই পানি সংগ্রহ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডাবের পানি ও নারকেলের দুধ এক নয়। নারকেলের শাঁস থেকে তৈরি দুধে চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি হলেও ডাবের পানি তুলনামূলক হালকা এবং সহজে হজমযোগ্য।

পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

ডাবের পানি প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি এবং এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এক কাপ ডাবের পানিতে প্রায় ৬০ ক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল দমন করে কোষের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডাবের পানি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম টাইপ–২ ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডাবের পানি পান করা উচিত।

কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় ভূমিকা

পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবের পানি কিডনি ও মূত্রনালিতে স্ফটিক জমা হওয়ার প্রবণতা কমাতে সহায়ক।

এছাড়া নিয়মিত ডাবের পানি পান রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ডাবের পানিতে থাকা উচ্চমাত্রার পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

কতটুকু পান করবেন?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্করা দিনে সর্বোচ্চ একটি টাটকা ডাবের পানি পান করতে পারেন। শারীরিক পরিশ্রমের পর বা দিনের বেলায় এটি পান করলে উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়। তবে কিডনি রোগী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ডাবের পানি পান করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।